বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ? meyeder masik na hoyar karon ki ?
অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক না হওয়া এমন একটি সমস্যা যার জন্য অনেক মেয়েদের অপবাদের শিকার হতে হয়। আজকে আমরা জানবো অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ কি? অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হলে করনীয় কি এসব বিষয় নিয়ে।
কোন মেয়ের মাসিক বন্ধ হওয়ার অনেক কারণ আছে। তবে মাসিক বন্ধ হওয়ার মেইন কারণ হল প্রেগন্যান্সি। শতকরা ৯০% লোকের প্রেগন্যান্সির জন্যই মাসিক বন্ধ হয়। কারণ প্রেগন্যান্ট হলে জরায়ুর এন্ডোট্রিয়াম ছিড়ে যায় না বরং তা অমরা বা গর্ভফুল তৈরী করতে সাহায্য করে।
তবে যদি আপনি অবিবাহিত হন এবং কারো সাথে সেক্স না করে থাকেন, কিন্তু আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে এটি জটিল রোগের উপসর্গ হতে পারে। আজকে আমরা জানবো বিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হয় কেনো এবং অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হলে করনীয় কি ।
অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ কি ?
অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। সিম্পল কারণ যেমন স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তার জন্য মাসিক যেমন বন্ধ হতে পারে তেমনি জরায়ুর ভিতরের টিউমারের জন্যও মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তার আগে আমরা জেনে আসি কতদিন পর্যন্ত নরমাল মাসিক কতদিন পর্যন্ত দেরি হতে পারে।
মাসিক কতদিন দেরিতে হতে পারে?
আপনার মাসিক দেরিতে হচ্ছে কিন্তু আপনি প্রেগন্যান্ট না এইটা আপনি জানেন। এর থেকে বড় চিন্তা আর দুটো নাই।
সময়মত মাসিক না হওয়ার কারণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থেকে শুরু করে অনেক গুরুতর রোগ হতে পারে। এছাড়া আপনি অবিবাহিত হলেও দুইটি সময়ে আপনার মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একটি হল যখন আপনার নতুন মাসিক শুরু হয় আরেকটি সময় হল যখন আপনার মেনোপজের সময় আসে। আপনার শরীরে কোন পরিবর্তন হলে আপনার মাসিক চক্র অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বেশিরভাগ লোকজন যারা কিনা মেনোপজ দশায় যায় নাই তাদের প্রতি ২৮ দিনে মাসিক হয়। তবে মেডিক্যাল এর বই সমূহে লেখা যে একটি মাসিক চক্র ২১ থেকে ৪০ দিনের ভিতর হয়। যদি আপনার ৪০ দিনের ভিতর মাসিক না হয় তাহলে মাসিক না হওয়ার কারণ নিম্নলিখিত একটা ভিতর থেকে হতে পারে। বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ? meyeder masik na hoyar karon ki ?
অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
অবিবাহিতদের মাসিক বন্ধের কারণের ভিতর প্রথম কয়েকটি কারণ যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে সেগুলোর উল্লেখ নিচে করা হল।
মেয়েদের মাসিক না হওয়ার কারণ
১ঃ মানসিক বা দুশ্চিন্তা অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
ক্রনিক স্ট্রেস আপনার দেহের হরমোন নিঃসরণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যার ফলে আপনার নিত্যদিনের কাজ-কর্মে প্রভাব পড়া সহকারে আপনার ব্রেইনে এক চাপ পড়ে। আর ক্রনিক স্ট্রেসের জন্য মাথার ব্রেইনের পিরিয়ড কন্ট্রোল করার পার্টে চাপ পড়ে যার নাম হল হাইপোথ্যালামাস। যত দিন যাবে স্ট্রেস ততই আপনার অসুস্থতার কারণ হবে এবং এর জন্য হটাত করে ওজন কমে যেতে পারে।
যদি আপনার আসলেই মনে হয় যে স্ট্রেসের কারণে অবিবাহিতদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে তাহলে কিছু স্ট্রেস কন্ট্রোল করার টেকনিক ফলো করতে পারেন যেমন লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করা ইত্যাদি।
স্ট্রেস ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট এটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
২ঃ শরীরের ওজন কম হওয়া অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
যাদের শরীরের ওজন কম তাদের মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যেমন যাদের খাবার নিয়ে রোগ উদাহরণস্বরুপ এনোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়া রোগ আছে তারা এমন ফেস করতে পারেন। শরীরের হরমোণ গুলার কাজ ঠিকমত করতে গেলে বডিতে নির্দিষ্ট পরিমান ফ্যাট থাকা লাগবে। আর ফ্যাট না থাকলে অভুলেশনে অনেক প্রব্লেম হয়। মেয়েরা কত সময় মিলন করতে পারে?
অনেক মহিলা দৌড়বিদ বা যেসকল মহিলারা ব্যায়াম করেন তারা এরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
৩ঃ স্থুলতা বা মুটিয়ে যাওয়া অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
বডিতে হরমোন কাজ করতে হলে আপনার নির্দিষ্ট ফ্যাট থাকতে হবে। এর থেকে কম বা বেশি হলে হরমোনগুলো কাজ করতে পারে না। এর জন্য অনেক মোটা হলে আপনার মাসিকে অসুবিধা হতে পারে। আমি এরকম অনেক দেখছি যে মোটা বলে তাদের ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় না। পরে তারা তাদের শরীরের ওজন কমিয়ে বাচ্চা জন্মদানে সক্ষম হয়েছে। দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ কি?
সাধারণত স্থুলতার জন্য এস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এর জন্যই অবিবাহিতদের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। আপনি ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার যদি দেখেন যে আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে মোটা হওয়ার জন্য তাহলে তিনি আপনাকে ওজন কমাতে বলতে পারেন।
৪ঃপলিসাইটিক ওভারি সিন্ড্রোম অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
পলিসাইটিক ওভারি সিন্ড্রোম তখনই হয় যখন আপনি মেয়ে হয়েও আপনার শরীর ছেলেদের হরমোন তৈরী করে যে হরমোনের নাম এন্ড্রোজেন। মেয়েদের জন্য যেসকল হরমোন দরকার সেসব হরমোন তৈরী করে জরায়ু। জরায়ুতে কোন কারনে সিস্ট বা টিউমার হলে এমন হয়। এর জন্য ওভুলেশন এ অনেক প্রব্লেম হয় আবার অনেকের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যান্য হরমোন যেমন ইনসুলিনও ভারসাম্যহীন হতে পারে। এর কারণ হল ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাওয়া যা কিনা পিসিওএস এর জন্য হয়।
৫ঃ বার্থ কন্ট্রোল অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
অনেক অবিবাহিত মেয়েরা প্রেমিকের সাথে সেক্স করার পর পিল খেয়ে নেয়। এই পিলের ভিতর আছে এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন। এই দুই হরমোন আপনার জরায়ুকে ডিম নিঃসরণের বাধা দেয়। পিল গ্রহনের পর ৩ মাস সময় লাগতে পারে আপনার মাসিক আগের মত হতে। আবার ইমপ্লান্টেশন বা ইঞ্জেকশন পিলও আপনার মাসিক না হওয়ার কারণ হতে পারে।
৬ঃ ক্রনিক ডিজিস অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
ডায়াবেটিসের মত ক্রনিক ডিজিজ গুলো আপনার মাসিক চক্রে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। রক্তের সুগার লেভেল বাড়া কমার সাথে হরমোনের সরাসরি লিংক আছে। যদিও আমি অনেক কম রোগী পেয়েছি এমন এর পরেও ডায়াবেটিস আপনার মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ করে দিতে পারে।
সিলিয়াক রোগ আপনার ক্ষুদ্রান্ত্রে অনেক রোগ সৃষ্টি করে যার জন্য ক্ষুদ্রান্ত খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না। এর জন্য অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে congenital adrenal hyperplasia এর জন্যও মাসিক দেরিতে হতে পারে।
৭ঃ Premature ovarian insufficiency (POI) অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
বেশিরভাগ মহিলারা ৪৫ থেকে ৫৫ বছরে মেনোপজ শুরু করে। যেসকল মহিলাদের ৪০ বছর বা তার আগেও মেনোপজ দেখা দেয় তাদের প্রিম্যাচার ওভারিয়ান ইনসাফিএন্সি রোগ দেখা দেয়। আমি এরকম রোগী খুবি কম দেখছি হতে গোনা তিন থেকে চার জনের মত।
সাধারণত যাদের জরায়ু মুখের ক্যান্সার হয় বা জরায়ুতে টিউমার হয় তাদের জরায়ু সার্জারি করে ফেলে দিতে হয়। আর এর জন্যই তাদের এমন হয়। তবে অনেকের জিনগন কারণে হতে পারে।
যদি আপনার বয়স ৪০ হয় এবং আপনার পর পর ২ মাস মাসিক না হয় তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাকে পিওআই টেস্ট ও ট্রিটমেন্ট দিতে বলুন।
৮ঃ থাইরোয়েড সমস্যা অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ
যদি আপনার থাইরয়েড গ্লান্ড বেশী বা কম কাজ করে তাহলে এর জন্য আপনার মাসিক নাও হতে পারে।
পিটুইটারি গ্রন্থির পর থাইরয়েড গ্লান্ড হল দেহের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট অংশ। থাইরয়েডের সমস্যার জন্য অনেকে মা হতে পারে না। থাইরয়েড আপনার দেহের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই থাইরয়েড বলতে গেলে আপনার মাসিক চক্রকেও নিয়ন্ত্রণ করে। যদি থাইরয়েডে সমস্যা হয় তাহলে সাধারণত তা ঔষুধে সেরে যায়। থাইরয়েডে অসুবিধা কি না তা জানার জন্য আপনাকে TSH T3 T4 হরমোন টেস্ট দিতে পারে। এগুলো থাইরয়েড হরমোন এর নাম।
বিবাহিতদের মাসিক না হওয়ার কারণঃ
আমি উপরে যেসকল কারণ বললাম সেগুলোও কিন্তু বিবাহিতদের মাসিক না হওয়ার কারণের ভিতর পরে। তবে বিবাহিতদের মাসিক না হওয়ার মেইন কারণ হল প্রেগন্যান্সি। অনেক সময় দেখা যায় বিয়ের প্রথম কয়েকদিন মাসিক একটু দেরিতে হয়। এর কারণ হল তখন মেয়েরা একটু দুশ্চিন্তায় থাকে। আর যেহেতু একদিনের ভিতরই হটাত করে তাদের লাইফস্টাইল চেঞ্জ হয় তাই তাদের মাসিক তখন ৩/৪ দিন দেরি করে হয়। এতে চিন্তার কারণ নেই।
তবে প্রথম সেক্সের সময় যদি কন্ডডম ইউজ না করা হয় এবং বীর্য যদি ভিতরে পড়ে যায় তাহলে এটি প্রেগন্যান্ট এর সাইন হতে পারে। আর যদি সেক্সের সময় কনডম ইউজ করা হয় এবং বীর্য যদি বাহিরে পড়ে তাতে প্রেগন্যান্টের কোন চান্স নেই। এতে পিরিয়ড কয়েকদিন দেরি করে হলেও অসুবিধা নাই।
সর্বশেষঃ
আজকে আমরা আলোচনা করলাম অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক না হওয়ার কারণ ও বিবাহিত মেয়েদের মাসিক না হওয়ার কারণ নিয়ে। আশা করি আপনাদের কিছু উপকার হয়েছে। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করতে পারেন, বা আমাকে ফেসবুকে নক দিতে পারেন।
Comments
Post a Comment