মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ

মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ কি আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন। কারণ আমাদের বাংলাদেশে বেশিরভাগ মেয়েদের যোনিই কালো হয়। এমন রোগীও পাওয়া গেছে যে সে অনেক ফর্সা কিন্তু তার যোনি বেশ কালো। এই বিষয় নিয়ে তার অনেক চিন্তা যে, তার যোনি কেনো কালো হয়েছে এবং তার যোনি কালো হওয়া কি কোন রোগের লক্ষণ কি না। আজকে আমি আলোচনা করবো মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ, যোনি কালো হওয়ার কারণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।

মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ

বয়সের সাথে সাথে আমাদের শরীরের কিছু পরিবর্তন হয়। তবে একটি জিনিস যা আপনি পরিবর্তনের আশা করেননি তা হল আপনার যৌনাঙ্গের চারপাশে আপনার ত্বকের রঙ।

যেকোনো কিছুর মতো, এই পরিবর্তন সাধারণত রাতারাতি ঘটে না। এই পরিবর্তন ঘটে ধীরে ধীরে – এত ধীরে ধীরে যে আসলে আপনি হয়তো এখনই এটি লক্ষ্যই করবেন না।

কিন্তু তারপর একদিন দেখবেন যে, আপনার যোনি আগের থেকে কালো হয়ে গেছে। আর আপনি ভাবছেন: সবকিছু কি ঠিক আছে?

হ্যাঁ, এটা স্বাভাবিক এবং সব কিছুই ঠিক আছে।

যোনির বা পুরুষাঙ্গের বা অণ্ডকোষের আশপাশের ত্বকের রং, মলদারের আশপাশের ত্বকের রং দেহের অন্যান্য অংশের থেকে কালো হওয়াটা স্বাভাবিক। আর যোনি কালো হওয়ার প্রসেসকে হাইপারগিগমেন্টেশন বলে। আমাদের দেশে বয়ঃসন্ধিকালের পরবর্তী সকল মেয়েদেরই যোনি কালো হবে।

তবে যোনির রং প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন। আপনার যোনির ত্বকের রং যেমন, অন্য আরেকজনের যোনির রং কখনই এক না। ব্যক্তিভেদে প্রাইভেট এরিয়ার রং পরিবর্তন হবে। আর যোনির কোন স্বাভাবিক রং নাই। তবে দেহের অন্যান্য অংশ থেকে যোনির রং গাঢ় হবে।

এক্ষেত্রে বলা যায় যে, আপনার ন্যাচারাল স্কিল কালারের উপর নির্ভর করে আপনার যোনি কতটুকু কালো হবে। যদি আপনি শ্যামলা হন তাহলে আপনার যোনি একটু বেশিই কালো হবে। আর কালো হলে হাইপারপিগমেন্টেশন এর জন্য যোনি আরো বেশি কালো দেখাবে। আর ফর্সা হলে বাদামী দেখাতে পারে।

যোনি কালো হওয়ার কারণ

যোনি কালো হওয়ার কারণ অনেকগুলোই আছে। হরমোন থেকে শুরু করে আরো অনেক কারণেই যোনি কালো হতে পারে।

হরমোন যোনি কালো হওয়ার কারণ

আমাদের ত্বক কালো হবে না ফর্সা হবে তা নির্ভর করে মেলানিন নামক পিগমেন্টের উপর। যদি মেলানিন বেশি হয় তাহলে আপনার ত্বক কালো হবে। আর মেলানিন কম হলে ত্বক ফর্সা হবে। আর মেলানিন তৈরী করে মেলানোসাইট নামের কোষ।

যোনি মেলানোসাইটের উপর বিশেষভাবে সেন্সিটিভ। আর যোনি এলাকায় কোন হরমোনের পরিবর্তন হলেই একটু একটু করে মেলানিন বের হতে থাকে। আর আস্তে আস্তে করে যোনি কালো হয়ে যায়।

সাধারণত মেয়েদের দেহে ১২ থেকে ১৮ বছরের সময় বেশ হরমোনের পরিবর্তন আসে। তখন যোনি কালো হয়ে যায়। আবার যখন একটা মেয়ে গর্ভধারণ করে তখনও হরমোনের পরিবর্তন হয়। আর গর্ভধারণ করলেও যোনি কালো হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ইস্ট্রোজেন হরমোন যোনির কালো হওয়ার জন্য দায়ী। এছাড়া এই হরমোন স্তনবৃন্ত, অ্যারিওলা এবং মলদ্বারের উপর বা চারপাশের ত্বককেও কালো করতে পারে।

বয়ঃসন্ধি এবং গর্ভাবস্থার সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে যোনির আশপাশের ত্বকের রং কালো হয়ে যায়। আর একবার কালো হলে এই এমনি এমনি সেরে যায় না। আস্তে আস্তে বেশি করে কালো হতে থাকে।

ঘর্ষণ এবং প্রদাহ যোনি কালো হওয়ার কারণ

আমাদের দেহের কোন অংশ যখন প্রতিদিন একই জায়গায় বারবার ঘষা খেতে থাকে তখন সেখানে বেশী করে মেলানিন তৈরী হয়। আর এর জন্য ঐ জায়গা কালো হয়ে যায়। যেমন ছেলেদের টাখনুগিরা নামাজের সময় বারবার ঘষা খায়। এর ফলে ঐখানে কালো হয়ে যায়।

দেহের কোন জায়গায় বারবার ঘষা খেতে থাকলে ঐ জায়গায় মেলানোসাইট কোষগুলো উত্তেজিত হয়ে যায়। যার ফলে বেশি মেলানিন তৈরী করে। যার ফলে হাইপারপিগমেন্টেশ হয়।

যখন কেউ সেক্স করে তখন যোনি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ঘর্ষণ হয়। আর এর জন্য যোনির দুই ঠোটের রং পালটে যায়। শুধু যোনি না, পায়ু পথে বা এনাল সেক্স করলেও এরকম মলদ্বার কালো হতে পারে।

আমাদের কুচকি প্রতিদিন উপরের অংশের সাথে নিচের অংশের সাথে ঘষা খায়। যার ফলে কুচকির ত্বকের অংশটুকু কালো হয়ে যায়। এছাড়া প্রসবের আঘাতের কারণেও কালো হতে পারে।

আমাদের দেহের কোন অংশে যখন প্রতিনিয়ত ঘষা লাগে তখন ঐ স্থানের ত্বক গুলো কেরাটিনাইজেশন নামক একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এর ফলে বাহিরের দিকের ত্বক শক্ত হয়ে ভিতরের দিকের অংশকে রক্ষা করে। যেমন ছেলেদের টাখনুগিরা শক্ত হয়ে যাওয়া, নিয়মিত হাত দিয়ে কাপড় চিপড়ালে হাতের চামড়া শক্ত হয়ে যায়। টাখনুগিরা শক্ত হয়ে গেলে সেখানে মেলানিন জমা হয়ে কালো দেখায়। আর হাতের তালুতে কোন মেলানিন নাই বলে সেখানে চামড়া শুধু শক্ত হয়, কালো হয়।

শেভিং ক্রিম যোনি কালো হওয়ার কারণ

অনেকেই যৌনাঙ্গের পশম দূর করার জন্য ভিট ক্রিম ব্যবহার করি। এর জন্য হাইপারপিগমেন্টেশন হতে পারে। আবার কুচকির ভাজে ক্রিম বা ঘষা লাগার জন্যও কালো হতে পারে। একে ইন্টারট্রিগো বলা হয়। ইস্ট ইনফেকশন, ইনগ্রাউন চুল এবং ফলিকুলাইটিসও পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশনের কারণ হতে পারে।

বার্ধক্য যোনি কালো হওয়ার কারণ

আপনার বয়স যত বাড়বে যোনি ততই কালো হবে। কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে যোনি অঞ্চলে হরমোনের পরিবর্তন বাড়ে। আর এর জন্য যোনি কালো হয়ে যায়। শুধু যোনি না আপনার শরীরের অন্য অঞ্চলও কালো হতে পারে।

মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ

শুধু যোনি না, আপনার শরীরের অন্যান্য জায়গাও কালো হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন আপনার স্তনের বোঁটা, অ্যারিওলা এবং আঁচিলকে কালো করতে পারে। এটি আপনার পেটের নীচের দিকে , আপনার তলপেটের মাঝখানে একটি কালো রেখা (বা লাইনা নিগ্রা) সৃষ্টি করতে পারে।

যদি ত্বক অধিকসময় ধরে সুর্যের আলোতে থাকে তাহলে মুখ, বুক, পিঠ এবং হাইপারপিগমেন্টেশন হতে পারে। এর জন্য দায়ী মেলানিন হরমোন।

আপনার শরীরের যে অংশগুলো বেশি বেশি করে ভাজ করা হয় সেসকল অংশ ত্বকের অন্যান্য অংশ থেকে কালো হতে পারে। যেমন কনুই, হাটু , বগল , কুচকি ইত্যাদি।

কারো কারো পিম্পল, ব্রণ , ফোড়া বা ঘা হওয়ার পর ঐ জায়গা কালো হতে পারে। একে পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন বলে।

যোনি ফর্সা রাখার উপায়

যদি যোনি হরমোন এবং বয়সের কারণে কালো হয় তাহলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব না। তবে ঘর্ষণের কারণে কালো হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দেহে ঘর্ষণ তখনই হয় যখন আমরা টাইট জামা কাপড় পড়ি। এছাড়া মাসিকের সময় পেন্টি পড়ার কারণে হতে পারে। আবার অনেকে যোনি সারাদিন ঢেকে রাখেন। এর জন্যও কালো হতে পারে। যোনি ফর্সা রাখার উপায় আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি

  • টাইট-ফিটিং পোশাক এবং আন্ডারওয়্যার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখা
  • যৌনাঙ্গের লোম কাটার জন্য ভিট ক্রিম সহ অন্যান্য সমজাতীয় ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না।
  • সুতি পোশাক পড়া।

যদি আপনি মনে করেন যে আপনার যোনি কালো হওয়ার কারণ প্রদাহ বা কোন ঘা বা কোন সংক্রামক রোগ, তবে সেগুলি যাতে সংক্রামিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সেগুলির দিকে নজর রাখুন। যোনি এলাকা পরিষ্কার এবং শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।

যোনি কালো হওয়ার কারণে কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?

যদি যোনির রং হঠাৎ পরিবর্তন হলে ডাক্তার দেখাতে হবে। এলার্জির কারণে যোনি হটাত করে কালো হয়ে যায়। আবার অনেকের দাদ বা পক্সের জন্যও যোনি কালো হয়ে যায়।

ডায়াবেটিস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের মতো কঠিন অবস্থার কারণেও হঠাৎ ত্বকের রঙ পরিবর্তন হতে পারে।

যদি ত্বক কালো হয়ে যায় এবং রুক্ষ হতে শুরু করে, তবে এটি অ্যাকন্থোসিস নিগ্রিকানস নামে পরিচিত একটি অবস্থা লক্ষণ হতে পারে।

যেমন যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের রক্তে ফ্যাট বেশি তাদের ঘাড় অনেক সময় কালো হয়ে যায়।

যদি কালো হয়ে যাওয়া হঠাৎ দেখা দেয় , বেশি দাগযুক্ত হয় এবং খসখসে বা ফুসকুড়ি বলে মনে হয়, তাহলে এটি যৌনাঙ্গের আঁচিলের মতো যৌন সংক্রমণও হতে পারে।

যদি হঠাত করে এরকম যোনি কালো হয় তাহলে তা চর্ম রোগ বা জরায়ুর রোগের লক্ষণ হতে পারে।

মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ

বয়স বাড়ার সাথে সাথে যোনি কালো হওয়া স্বাভাবিক। আর এরকম সমস্যার ভিতর সবাই যায়। আর সত্য বলতে কি শুধু যুবতী বয়সেই ত্বকের অনেক দাম থাকে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সে সবাই একই এবং কারো ত্বকের সাথে কারো ত্বকের ভিন্নতা থাকে না।

আমরা অনলাইনে যে সকল ছবি দেখি তা মোটেও সত্য না। কারণ যোনি কালো হবেই। এটা স্বাভাবিক। আর অনলাইনে পাওয়া ছবি গুলো এডিটেড ছবি।

তবে আপনার যদি কালো যোনি নিয়ে সত্যি খারাপ লাগে তাহলে লেজার অপারেশন করতে পারেন। এতে করে ফর্সা যোনি পেয়ে যাবেন। এছাড়া অনেক যোনি ফর্সা করার ক্রিম পাওয়া যায়। তবে যোনি ফর্সা করার ক্রিম ইউজ করলে জরায়ু ক্যান্সার হতে পারে। কারণ যোনি ফর্সা করার ক্রিমে লেডসহ ক্রমিয়াম থাকে।

সর্বশেষঃ মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ

যদি আপনার এখনো খটকা না কাটে তাহলে একজন এমবিবিএস ডাক্তারের সাথে কথা বলুন যোনি কালো হওয়ার কারণ নিয়ে। তিনি আপনাকে সঠিক সাহায্য করতে পারবেন।

তবে আমার কথা হলো যদি আপনার স্বামী আপনার কালো যোনিতেই সন্তুষ্ট থাকে তাহলে ফর্সা করার দরকার নাই। আর এমনি অনলাইনে পাওয়া যোনি ফর্সা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার করা উচিৎ না। আজকে আমি আলোচনা করলাম মেয়েদের যোনি কালো হওয়ার কারণ । যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে কমেন্ট করতে পারেন।

Comments

Popular posts from this blog

জরায়ু কেটে ফেললে কি সহবাস করা যায়?

যোনিতে লিংগ প্রবেশের নিয়ম